আমিরাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের জরাজীর্ণ ভবনে চলছে সেবা
মতলব উত্তর প্রতিনিধি : আমিরাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের জরাজীর্ণ ভবনে চলছে সেবা।
মতলব উত্তর উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বর্তমান অবস্থা দেখে যে কেউ হতাশ হয়ে পড়বে।
প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ বছর আগে, ১৯৫৪ সালে নির্মিত এই টিনশেড ভবনটি এখন ত্রাণহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
ফরাজীকান্দি, এখলাসপুর ও জহিরাবাদ তিন ইউনিয়নের মানুষের ভূমি সেবার জন্য ব্যবহার হলেও,
এখানে আসা মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। ভবনের ছাদ ফাটল ধরে, দেয়ালের প্লাস্টার ভেঙে পড়ছে,
আর দরজা-জানালা বেশির ভাগই নষ্ট হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
একটি ক্ষুদ্র কক্ষে বসেই প্রতিদিন শতাধিক মানুষের ভূমি সংক্রান্ত কাজ সারেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তানজির হোসেন।
অফিসের অভ্যন্তরে নিরাপদ আলমারি বা নথিপত্র সংরক্ষণের কোনও ব্যবস্থা না থাকায় নথিপত্র চুরির আশঙ্কা সবসময় থাকে।
দেড় বছর আগে একবার ভাঙা দরজা দিয়ে চোরেরা অফিসে ঢুকে একটি ল্যাপটপ ও মূল্যবান নথি নিয়ে যাওয়ার
পর থানায় জিডি করা হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনো জোরদার হয়নি।
স্থানীয়দের বক্তব্য
স্থানীয়রা এই অবস্থায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ফরাজীকান্দির আবদুল হালিম (৬৫) বলেন, “ভূমি অফিসে গেলেই ভয় লাগে,
কারন কোনো নথি হারিয়ে গেলে কে দায়িত্ব নিবে জানি না। এতো পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কীভাবে সেবা চালানো হয়, বুঝি না।”
জাহিরাবাদের সালমা আক্তার (৪০) জানান, “আমি নামজারির জন্য কয়েকবার এসেছি, ভিতরে ঢুকলেই অস্বস্তি হয়।
দেয়াল ভেঙে, চেয়ার-টেবিল নড়বড়ে, নারী হিসেবে কাজ করা কঠিন।” এখলাসপুরের বাসিন্দা ইলিয়াস মিয়া (৩৮) বলেন,
“বর্তমান কর্মকর্তা আন্তরিক হলেও, কাজ করার মতো পরিবেশ নেই। নতুন ভবন হলে সেবা আরও সহজ হবে।”
রাশেদা বেগম এর বক্তব্য
অন্যদিকে, আমিরাবাদের রাশেদা বেগম (৫৫) বলেন, “এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রাখা মানেই চুরির আশঙ্কা। সরকার যদি দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করে, আমরা উপকৃত হবো।” স্থানীয় সমাজকর্মী মো. ফখরুল সরকার মন্তব্য করেন, “৭০ বছরের পুরনো এই ভবনটিতে এখনও সরকারি কাজ চলছে, যা অস্বাভাবিক ও করুণ। এত বড় জনসংখ্যার সেবা এখানে দেয়া হয়, অথচ অবকাঠামো এইরকম দুর্বল।”
ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. তানজির হোসেন জানান, “আমি আন্তরিকতার সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালন করছি, তবে এই পুরনো ভবনে কাজ করতে বেশ কষ্ট হয়। ইতোমধ্যে নতুন ভবনের জন্য সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে।”
মতলব উত্তর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমা বলেন, “আমরা অফিসের বর্তমান দুর্বল অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছি। নতুন ভবনের জন্য প্রস্তাব ইতোমধ্যে উচ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত এই পুরাতন ভবন ভেঙে আধুনিক ও নিরাপদ ভবন নির্মাণ করা হবে। ততদিন পর্যন্ত নিরাপত্তা ও সেবার মান বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ভূমি অফিসের আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প নেই। নতুন ভবন নির্মাণ না হলে এখানে আসা মানুষের দুশ্চিন্তা এবং কর্মকর্তাদের সীমাবদ্ধতা অব্যাহত থাকবে। তাই স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে এই জরুরি সেবা কেন্দ্রটিকে আধুনিক ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলবে।

